অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মেয়েদের শিক্ষা-বঞ্চিত করার তালিবানের সিদ্ধান্তটি ব্যয়বহুল: ইউনিসেফ


গত বছর তালিবান ক্ষমতা দখলের পরও আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে খোলা থাকা এক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত আফগান মেয়েরা। ১১ আগস্ট, ২০২২। আফগানিস্তানের বেশিরভাগ কিশোরী এক বছর ধরে শ্রেণীকক্ষের বাইরে রয়েছে।
গত বছর তালিবান ক্ষমতা দখলের পরও আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে খোলা থাকা এক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত আফগান মেয়েরা। ১১ আগস্ট, ২০২২। আফগানিস্তানের বেশিরভাগ কিশোরী এক বছর ধরে শ্রেণীকক্ষের বাইরে রয়েছে।

জাতিসংঘের মিশু তহবিল ইউনিসেফের তথ্যমতে, এবছর তালিবান গোষ্ঠি মেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়ায়, আফগানিস্তানের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ২.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ইউনিসেফ জানায়, এর বাইরেও তাদের বিশ্লেষণ বলছে যে ক্ষমতার পালাবদলের এই সময়ে আফগানিস্তানের মোট দেশজ উৎপাদনের যে ঘাটতি হয়েছে, মেয়েদের শিক্ষার অধিকার পূর্ণ না করলে ও তাদেরকে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করতে না দিলে, সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারবেনা। এছাড়া তাদের সম্পূর্ণ সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে সক্ষম হবে না।

ইউনিসেফ সোমবার জানিয়েছে “যদি বর্তমানে বিদ্যমান ৩০ লাখ মেয়ে তাদের মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করতে পারে এবং তাদের চাকরির বাজারে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়; তবে মেয়ে ও নারীরা আফগানিস্তানের অর্থনীতিতে অন্তত ৫৪০ কোটি ডলার অবদান রাখতে পারবে।”

ইউনিসেফ বলছে যে তাদের এই হিসাবে, মেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করার কারণে সৃষ্ট অ-আর্থিক প্রভাবগুলো যুক্ত করা হয়নি। প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, নারী শিক্ষক, ডাক্তার ও নার্সদের সংখ্যা কমে যাওয়া। ইউনিসেফ বলছে, তেমনটি হলে তা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের উপস্থিতির হার হ্রাস করবে এবং কিশোরী গর্ভধারণ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি করবে।

আফগানিস্তানে ইউনিসেফ প্রতিনিধি, ড. মোহামেদ আয়োয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তালিবানের সিদ্ধান্তটি বিস্ময়কর ও অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি আরও বলেন, এটি মেয়েদের শিক্ষার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং এটি “তাদেরকে বাড়তি অস্থিরতা, এবং শোষণ ও নির্যাতনের বর্ধিত ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে। ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশু পাচার, বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া।”

XS
SM
MD
LG