ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ বিরতি সমঝোতার অংশ হিসেবে গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস তৃতীয় দফায় জিম্মি হস্তান্তর করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, গাজায় জঙ্গিরা যাদের মুক্তি দিয়েছে, তাদের মধ্যে চার বছরের আমেরিকান মেয়ে আবিগেইল ইডান রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জাতিয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভান বলেছেন, ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের হামলার সময়, মেয়েটির ‘’বাবা-মাকে তার চোখের সামনে হত্যা করা হয়।‘’ সালিভান এবিসি টেলিভিশনের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে এ’কথা বলেন।
সালিভান বলেন, হামাসের হাতে সর্বমোট নয়জন আমেরিকান এবং যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অধিকার আছে এমন একজন বিদেশি জিম্মি রয়েছে।
ইসরাইল বলেছে, অতিরিক্ত ১০জন জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে তারা বর্তমান যুদ্ধ বিরতি এক দিন করে বাড়াবে।
‘’যদি এই বিরতি থেমে যাই, তাহলে তার দায়িত্ব হামাসের উপর বর্তাবে,’’ সালিভান বলেন।
এর আগে, হামাসের কাছ থেকে মুক্তি পাবে এমন জিম্মিদের তালিকা পেয়েছে বলে রবিবার জানায় ইসরাইল। চারদিনের যুদ্ধবিরতির তৃতীয় দিনে এই জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
জিম্মি ও নিখোঁজদের সমন্বয়কারী কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তালিকাটি পরীক্ষা করে দেখছেন। জিম্মিদের পরিবারকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে।
গাজায় যুদ্ধ বিরতির মাঝে, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী কমপক্ষে ছয়জন ফিলিস্তিনিকে রাতে গুলি করে হত্যা করেছে বলে রবিবার জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
জিম্মির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দি
শনিবার রাতে হামাস মোট ১৭ জন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন ইসরাইলি এবং চারজন থাইল্যান্ডের নাগরিক। এর কিছুক্ষণ পর রবিবার ভোরে ইসরাইল ৩৯ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেয়।
ইসরাইল দাবি করে, হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিনিময় চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে এবং পূর্ব নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর জিম্মিদের ছাড়ে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কাতারি ও মিশরীয় মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে জিম্মিদের অবশেষে মধ্যরাতের ঠিক আগে মুক্তি দেওয়া হয়।
সাতজন শিশু ও ছয়জন নারীসহ মুক্তি পাওয়া ১৩ জন ইসরাইলি নাগরিকের অধিকাংশই কিববুৎজ বেইরির বাসিন্দা। এদের মধ্যে শিশুদের বয়স ৩ থেকে ১৬ বছর এবং নারীরা প্রায় ১৮ থেকে ৬৭ বছর বয়স্ক।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং শিন বেট সিকিউরিটি সার্ভিসের পক্ষ থেকে জিম্মিদের মুক্তির ঘোষণা আসার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে তাদের গ্রহণের ঘোষনা দেন, যার মধ্যে ১৩ জন ইসরাইলি, চারজন থাই নাগরিক।
যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য দেশ হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে।
মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি
জাতিসংঘ বলেছে, এই বিরতির ফলে তারা তাদের মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।
মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার গাজার উত্তরাঞ্চলে ৬১ ট্রাক ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য, পানি ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামাদি।
গত ৭ অক্টোবরের পর গাজায় পাঠানো ত্রাণের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ।
শিফা হাসপাতালে মোট ১১টি অ্যাম্বুলেন্স, তিনটি কোচ এবং একটি ফ্ল্যাটবেডও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ লাখ ২৯ হাজার লিটার জ্বালানি গাজায় প্রবেশ করেছে বলেও জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়।
ভিওএ'র নাতাশা মোসগোভায়া এই প্রতিবেদন তৈরিতে অবদান রেখেছে। কিছু তথ্য এপি, এএফপি এবং রয়টার্স থেকে নেয়া হয়েছে।