ঘানা ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির উপর ভিত্তিকরে সুদের হার বাড়িয়েছে 

ফাইল-ঘানার আক্রায় ২৯শে জুন ২০২২ সালে সাম্প্রতিক আর্থিক কষ্টের প্রতিবাদে বোঝা বহনকারীরা মিছিল করে

ঘানা তার সুদের হার রেকর্ড পরিমাণ সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে যখন দেশটি অংশত ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য কমানোর জন্য লড়াই করছে।

ঘানা তাদের মুদ্রা সিডি’র দর বাড়ানোর চেষ্টা করছে যা শ্রীলংকার রুপির পরে বিশ্বব্যাপী মুদ্রা মূল্যমান পতনের সবচেয়ে নিচে থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় জুলাই মাসে রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ হয় এবং তারা বেল আউট বা অর্থসহায়তা দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে আলোচনা করেছে ।

ঘানায় জুলাই মাসে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি ৩১.৭% দাঁড়িয়েছে যা ২০০৩ সালের শেষের দিক থেকে সর্বোচ্চ এবং এর ফলে খাদ্য ও পরিষেবার খরচ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীরা বলছেন যে আমেরিকার ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মান ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ার কারণে তারা তাদের ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

রাজধানী আক্রাতে কোল্ড স্টোরের ব্যবসা করেন পাঁচ সন্তানের জননী ৪৫ বছর বয়সী না কোশি। তিনি ভিওএকে বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়তে থাকায় তার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই সরকারের প্রতি জনগণের অনেক আশা ছিল কিন্তু এটা বিব্রতকর যে দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকেই যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আদ্দো বৃহস্পতিবার ঘানার মেথোডিস্ট চার্চে ভাষণ দেয়ার সময় বলেন, তার সরকার কাজ করছে, ঘুমাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, "ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রভাবের কারণে মহামারীর বিপর্যয়গুলির আরও অবনতি ঘটে যার ফলে ক্রমবর্ধমান মালপরিবহনের খরচ, ক্রমবর্ধমান জ্বালানী খরচ, খাদ্যের উচ্চ দাম, মুদ্রাস্ফীতির উর্দ্ধগতি এবং ব্যাপক ব্যবসায়িক ব্যর্থতার ঘটনা ঘটছে। আমি সম্পূর্ণ ভাবে ওয়াকিবহাল যে ঘানায় আমাদের জন্য এটি খুব কঠিন সময় ঠিক যেমনটি বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে। তবে, আকুফো-আদ্দো সরকার এই মারাত্মক ক্ষতিকর অবস্থায় হতাশায় তার হাত গুটিয়ে নেয়নি।

প্রেসিডেন্ট বলেন যে তিনি আশাবাদী যে অর্থনীতির সুদিন আসবে এবং ঘানাবাসীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।

তিনি বলেন, “আমরা ঘানার জনগণের জন্য ত্রাণ পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ঘানার মুদ্রাসিডির মানের অগ্রহণযোগ্য অবমূল্যায়ন মোকাবেলায় অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মূল্যস্ফীতির রাশ টানা, খাদ্যের দাম হ্রাস করা হচ্ছে সরকারের একটি বড় কাজ এবং এই আগত মৌসুমে, অন্যান্য নীতিমালার সাথে একত্রে আমাদের ফসল এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে ।

সরকারের জন্য সময় ফুরিয়ে আসছে কারণ ঘানাবাসীরা অধীরভাবে অপেক্ষা করছে যে ঘানায় ১ লা সেপ্টেম্বর থেকে ইউটিলিটির (বিদ্যুৎ,গ্যাস ও পানির)দাম বৃদ্ধির আগে একটি বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আসবে।