বেইজিং-এ আরব মুসলিম প্রতিনিধিদল অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই (মাঝে) বেইজিং-এ দিয়াওইউতাই রাজ্যের গেস্টহাউসে পাঁচজন আরব এবং ইসলামিক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে একটি গোল টেবিল বৈঠকের সময় তার বক্তব্য রাখছেন। ২০ নভেম্বর,২০২৩।

সোমবার বেইজিং-এ চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ইয়ের সাথে বৈঠকে আরব ও মুসলিম কর্মকর্তারা গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ছিটমহলে মানবিক ত্রাণ সহায়তার অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সৌদি আরব, জর্ডান, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং ওআইসির মন্ত্রীদের একটি প্রতিনিধিদল গাজায় সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন রাজধানী সফরের প্রথম ধাপে বেইজিং সফরে যান।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বিদেশী কূটনীতিকদের বলেছেন, বেইজিং সফরের মাধ্যমে তাদের সফর শুরু করার সিদ্ধান্ত তার দেশের প্রতি তাদের উচ্চ স্তরের আস্থার প্রদর্শন।

চীন যুক্তরাষ্ট্রের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি ফিলিস্তিনিদের সমর্থক এবং তারা অধিকৃত অঞ্চলে বসতি স্থাপনের জন্য ইসরাইলের প্রতি তড়িৎ নিন্দা জ্ঞাপন জারি রেখেছে। বেইজিং ৭ অক্টোবর হামাসের প্রাথমিক হামলার প্রকাশ্যে নিন্দা জানায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যরা এটিকে “সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম” বলে অভিহিত করেছে।

তবে ইসরাইলের সাথে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

বেইজিং-এ ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইরিত বেন-আব্বা সোমবার এক ব্রিফিং-এ বিদেশী সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি আশা করেছিলেন, “এই সফর থেকে যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে কোনো বিবৃতি আসবে না, এখন এটির সময় নয়।”

প্রতিনিধি দলটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কর্মকর্তাদের সাথেও সাক্ষাৎ করবে। তারা ইসরাইলের আত্মরক্ষা হিসেবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তাদের কর্মকান্ডের ন্যায্যতা প্রত্যাখ্যান করার জন্য পশ্চিমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেছেন, “আমরা এখানে সুস্পষ্ট সংকেত পাঠাতে এসেছি, অর্থাৎ আমাদের অবিলম্বে যুদ্ধ এবং হত্যাকান্ড বন্ধ করতে হবে, আমাদের অবিলম্বে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ চালু করতে হবে।”

এই মাসের শুরুর দিকে রিয়াদে অনুষ্ঠিত সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কর্তৃক আয়োজিত যৌথ ইসলামিক-আরব শীর্ষ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকেও ফিলিস্তিনি অঞ্চলে “ইসরাইল যে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করছে” তার তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশের পর ইসরাইল হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য তার সামরিক অভিযান শুরু করে। ইসরাইল বলেছে, সন্ত্রাসী হামলায় ১২০০ লোক নিহত হয়েছে এবং প্রায় ২৪০ জনকে বন্দি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসরাইল, মিশর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানও হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, গাজা ভূখন্ডে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৫০০০ শিশুসহ অন্তত ১৩০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য এপি এবং রয়টার্স থেকে নেয়া হয়েছে।