ইউক্রেন চাইছে মিত্র দেশগুলো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি বৃদ্ধি করুক

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক, নেটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ এবং ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দমিত্রো কুলেবা সুইডেনের সাথে ব্রাসেলসে জোটের সদর দপ্তরে নেটো-ইউক্রেন কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দেন। ( ২৯ নভেম্বর, , ২০২৩)

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দমিত্রো কুলেবা পশ্চিমা মিত্রদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন যাতে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু নিশ্চিত করা যায়।

ব্রাসেলসে নেটোর দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে কুলেবা বলেন, তিনি মনে করেন না উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে “পশ্চিমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে”। তবে লক্ষ্য পূরণের জন্য আরও অনেক টেকনিকাল কাজ করার আছে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধে শুধু ইউক্রেনের নিরাপত্তাই কেবল নয়, সমস্ত ইউরোআটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। তাছাড়া ইউক্রেন তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য সম্ভাব্য সব কিছুই করবে বলেও জানান তিনি।

নেটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ সাংবাদিকদের বলেন, অর্থনৈতিক চাপের সম্মুখীন হয়ে রাশিয়া চীনের ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। সামরিক চাপও রয়েছে তাদের উপর। যার কারণে উত্তর কোরিয়া ও ইরানের ওপর গোলাবারুদ ও অস্ত্রের জন্য তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়ার দখলে থাকা অঞ্চলের ৫০ শতাংশ ইউক্রেনের পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম ও কর্মীদের ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করেন নেটোর প্রধান তবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এ কথা উল্লেখ করে রাশিয়াকে খাটো করে না দেখার বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।

নেটোর ইউক্রেনে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্টোলটেনবার্গ বলেন, এই বিমানগুলো ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াবে। একই সাথে তা রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুগুলোতেও আঘাত হানতে পারবে। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য এবং রাশিয়ানদের পিছপা করতে অনেক কিছুরই সংমিশ্রন দরকার হবে।

মিত্রদের দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন স্টলটেনবার্গ।

রাশিয়া আরও ২১টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে বুধবার জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। পশ্চিম ইউক্রেনের খামেলনিৎস্কি অঞ্চলের দিকে নিক্ষিপ্ত ইরানের তৈরি ২১টি শাহেদ ড্রোনের সবগুলোই ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।

এই প্রতিবেদনের জন্য কিছু তথ্য এ এফপি এবং রয়টার্স থেকে নেয়া।